Slideshow Image 1 Slideshow Image 2 Slideshow Image 3 Slideshow Image 4 Slideshow Image 5 Slideshow Image 6 Slideshow Image 7 Slideshow Image 8 Slideshow Image 9 Slideshow Image 10
Blog Details
My Blog

23 September 18

 সলিল চৌধুরী

সলিল চৌধুরী বাংলা গানের জগতে একটা ছেদ । একটা Departure । রবীন্দ্রনাথের গান । তারপর সলিল চৌধুরী । ঠিক যেভাবে গ্রিক নাটকের পর শেক্সপিয়ার । তেমনি । নান্দনিক অভ্যেস, রুচি বদলাতে একটা আকস্মিকতা । একটা ঝাঁকুনি । একদম নতুন, ফ্রেশ, পৃথিবীর কবিতায় যেমন রোমান্টিকেরা, যেমন বোদলেয়ার, যেমন শেলি ঘাতক এলিয়ট; তেমনি যেমন রবীন্দ্রনাথের পর জীবনানন্দ, সুধীন্দ্রনাথ, বিষ্ণু দে- এবং প্রবল ও প্রখর জীবনানন্দ- তেমনি সলিল চৌধুরী । রবীন্দ্রনাথের উত্তরসূরি । তবু রবীন্দ্রনাথের থেকে কত দূরে ।

কল্লোলের উচ্চকিত ঘোষণায়, তারাশঙ্কর,বিভূতি-মানিক আর সতীনাথ ভাদুড়ীর বলিষ্ঠ আগমনে, জীবনানন্দ থেকে বিষ্ণু দে পর্যন্ত কবিদের ঊদ্ধত পদচারণায় গত শতকের তিরিশের দশকেই কবিতা ও সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের আঁকা সাহিত্যের মানচিত্রে ঘটল রদবদল । কিন্তু বাংলা গানকে অপেক্ষা করতে হল- আর কিছুদিন, চল্লিশের দশকে সলিল চৌধুরীর আসা পর্যন্ত ।

বিশ শতকের গোড়া থেকে যে আঁভাগার্দ সাহিত্য আন্দোলনের সূচনা, কবিতায় যার ফসল এলিয়ট, সাহিত্যে-শিল্পের বিস্তৃত অঙ্গনে যার ফসল সুররিয়ালিস্ট আত্মমুখীনতা, বা তারও আগে কাফকার ট্রায়াল বা ক্যাসেল, তা জনরুচিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখাতে চাইল । অন্যদিকে আছেন গোর্কি, মায়াকোভস্কি, এসেনিন, আরাগঁ, এলুয়ার, লুসুন, ব্রেশ্‌ট, নেরুদা । এঁরাও আঁভাগার্দ ঘরানার । কিন্তু এরা গণমুখী । সলিল চৌধুরী এদেরই সহোদর । এদের সঙ্গেই তাঁর রক্তের সম্পর্ক । এদের মতোই সলিল চৌধুরী আজীবন আলোর পথযাত্রী ।

রবীন্দ্রনাথ । আলোর উপাসক রবীন্দ্রনাথ, আলোকের ঝরনাধারায় যার অবগাহন । ভুবন ভরা আলো যাঁর আত্মার আত্মীয়- সেই উপনিষদীয় রবীন্দ্রনাথ । তমসা থেকে জ্যোতির দিকে, অন্ধকার থেকে আলোর দিকে তাঁর যাত্রা । সলিল চৌধুরীও তাই । এইখানে তিনি উত্তরসূরি । এইখানে তাঁর প্রবহমানতা । সামাজিক অবস্থান আর রাজনীতির পট-পরিবর্তন হচ্ছে । রদবদল ঘটছে । এই যুদ্ধ, মৃত্যু, ক্ষয়, ধ্বংস এবং তারপরেও মানুষ বাঁচে, মানুষ বাঁচবে । এই যে  মহান সত্য- মানুষ বাঁচে এবং বাঁচবে, সলিল চৌধুরীও সেই বেঁচে থাকার লড়াইয়ে সামিল । একটা অন্ধকার ঘরে গাছের পাতা যেমন আলোর দিকে ছুটে যায়, তেমনি গুহার আঁধারে আলো এসে পড়ল, আর নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ হল । সলিল চৌধুরীও তেমনি ক্রমাগত আছড়ে পড়তে পড়তে, চিৎকার করে আলোর দিকে ছুটছেন । সলিল চৌধুরী যখন শুরু করছেন তখন তাঁর পিছনে আছে রবীন্দ্রনাথের গানের বিশাল ভাণ্ডার । আলোর পথযাত্রীর কাছে আসছে আহ্বান । এই যে রাত্রি এখানে থেমে যেও না । ক্লান্ত হয়ে হারিয়ে যেও না । পথ ঘাট প্রান্তর ছাড়িয়ে বহুদূর থেকে আসা সেই ডাক । ছেঁচড়ে- ছেঁচড়ে- ছেঁচড়ে এগিয়ে চলো, লড়তে-লড়তে-লড়তে, মার খেয়েও যেতে হবে । কখন কখন মনে হয় জীবন একটা সংগ্রাম । কিন্তু জীবন কেন একটা সংগ্রাম হবে? সত্যিই তো । বেঁচে থাকার মধ্যে, একটা শিশুর ভূমিষ্ঠ হওয়ার মধ্যে কী প্রবল সংগ্রাম । চারপাশে লক্ষ লক্ষ জীবাণু অবশ্য ওঁত পেতে আছে । তার মধ্য দিয়ে শিশুটিকে, শিশুর মাকে বাঁচতে হবে । একটা ঘটে যেতে পারা মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে এই বেঁচে থাকা । গর্ভের অন্ধকার ভেদ করে আলোর দিকে তার যাত্রা । মানবজীবনের এই গোটা ইতিহাসের যাত্রা- সেই আদিম সাম্যের পৃথিবী থেকে, শ্রেণিবৈষম্যের ধুলো, কাদা, রক্তমাখা ইতিহাস পেরিয়ে সেই নতুন সাম্যের দিকে, আলোর দিকে যে যাচ্ছে- সে হল স্বয়ং মানুষ ।

এক অভাবনীয় কান্ড ঘটালেন সলিলদা । এমনই মনে হয় । এরকমটা ছাড়া আর কী-ই বা হতে পারে । বালুচরের আশা- তাঁর সুরে কোনো minor note নেই । ঠিক এমন জায়গায় কতরকম জটিল সুরবিন্যাস, কত কোমল (minor notes), কত কড়ি (minor notes) বয়ে যেতে পারত । সে সব কিছু ব্যবহার না করে মূল স্বরটিকে major scale–এ বেঁধে রাখলেন । আসবে অনুসঙ্গ হারমোনির, কিন্তু বাঁধা থাকবে বিলাবলের ঔদার্যে । এর মধ্যেই লেপটে আছে আলো । একটা fight দিতে হবে । কিন্তু এই আলো একমুখী নয় । ক্লান্ত মানুষ, রিক্ত মানুষ- গানের লয়ের ভিতর জড়িয়ে থাকে । আসলে যে লয় ব্যবহার করা হয়েছে, আর যে সব সা রে গা মা পা- তা যেন থমকে থমকে ছেঁচড়ে ছেঁচড়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে এগোচ্ছে । তা যেন ক্লান্তিকে উলের কাঁটার মতো বুনে চলেছে । সাহেবদের ভাষায় বললে এই লয় lento (অতিধীর)। Andante (ধীর) হয়ে Allegro (দ্রুত) ঝাঁপিয়ে পড়বে । আমরা শুনতে পাব ‘আহ্বান ওই আহ্বান’ । গানের ভেতর তখন হাজার মানুষের পদচারণা- ওই এসে পড়েছে ‘নূতন ঊষার স্বর্ণদ্বার’ । এই ভাবে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে যাওয়ার এক লম্বা রক্তক্লান্ত পথ পেরিয়েই আলো । এ যেন উপকুল ধরে যুধিষ্ঠিরের যাত্রা । পঞ্চপান্ডবের মৃত্যু । দ্রৌপদীর মৃত্যু, মহাপ্রস্থানের স্বর্গ, তেমনি । না পাল ছিন্ন, রাত্রির অন্ধকার- তবু ক্লান্ত হওয়া চলবে না, তমসো মা জ্যোতির্গময়- এই আশাবাদে দু’জনের মিল ।

তবু পার্থক্য অনেক । যখন ‘আহ্বান শোনো আহ্বান’ শুনি- ওই গানে, তখন মনে হয় যেন রেড আর্মি বার্লিনের পায়ের শিকল খুলে দিচ্ছে, যেন বাস্তিলের দুর্গ ভেঙ্গে পড়ছে হুড়মুড় করে । যেন আলোর সংক্রামক উল্লাস ছড়িয়ে পড়ছে, আর হাজার হাজার মানুষ হেঁটে চলেছে সেদিকে । এ যেন বেঠোফেনের এক প্রণম্য গান নাইনথ সিম্ফনির ওড টু দ্য জয় মুভমেন্ট । ঠিকরে বেরিয়ে আসছে যেন আলো । ঐতিহ্যের সেই আলো গায়ে মেখে নিয়ে এক নতুন ঠিকানার দিকে হাঁটছেন সলিল চৌধুরী । আলোর পথে হেঁটেছেন রবীন্দ্রনাথ । সারাজীবন তাঁর আলোর তপস্যা । আলোর স্রোতে পাল তুলেছে হাজার প্রজাপতি- আলোর প্রাচুর্য ভরাট করে দেয় সব অন্ধকার কোণ । আছে আছে- এমনকী দুঃখের ভেতরেও বাজাতে থাকে এই একটা কথা । আর মন্দা, যুদ্ধ, মন্বন্তর, দাঙ্গার পৃথিবীতে এসে সলিল চৌধুরীকে আলোর জন্য লম্বা পথ পাড়ি দিতে হয় । লড়ে অর্জন করে নিতে হয়। রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তির আত্মমুক্তি, ব্রহ্মের সঙ্গে মিলন ও বিরহ, লীলাময়তা, রুপমুগ্ধতা- চরিত্রের দিক থেকে মূলত রোম্যান্টিক । আর সলিল চৌধুরী এখানে মূলত নব্য ক্লাসিকাল । গণমুখী শিল্পী হিসেবে তাঁর কাছে আলোর পৃথিবী আর কোনো অপার্থিব দান নয় । গুহার আঁধারে অপার্থিব কোনো আলো এসে নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ ঘটাবে না । আলো অর্জন করে নিতে হবে । আলোর পথে লম্বা পথ পাড়ি দিতে হবে । খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে, ক্লান্ত হয়ে আর ক্লান্তি ভেদ করে আলো ।

১৮৭৫-এ বঙ্কিম লিখেছেন বন্দে মাতরম । স্বাধীনতার আগে আমি ৪২ রকমের বন্দে মাতরম শুনেছি। শুনেছি মানে প্রামাণ্য ডিস্ক আছে তার । প্রতিটি ডিস্ক আমি শুনেছি। একটা অনুষ্ঠান তৈরি করতে হয়েছিল আমাকে । ১৯৪৭ থেকে যতদূর- সে বন্দে মাতরমের সুর কী করুণ । যেন মা আমার কাজের মেয়ে । মা আমার বন্দী । মায়ের মুক্তি নেই । রবীন্দ্রনাথে দেশ রাগে একটা বন্দে মাতরমের সুর শুনেছি । ক্রমে স্বাধীনতা আসছে । মানে স্বাধীনতা আসবে । যদিও মানুষের প্রকৃত মুক্তির জন্য মানুষকে আরো অনেক পথ হাঁটতে হবে । আমরা ২০১১ সালে দাঁড়িয়ে যেমন বলতে পারি ১৯৪৭ আসছে, স্বাধীনতা আসছে । তাদের কাছে তখনও জানা নেই । আলোর পথযাত্রীতে আলোর থেকে যত দূরে তত ক্লান্তি । আলোর আহ্বান যত স্পষ্ট তত জেগে উঠেছে বলিষ্ঠতা- একইরকম । কিন্তু রবীন্দ্রনাথে ক্রমে ঘটল দৃষ্টিকোণের বদল । স্বদেশি আন্দোলনে যিনি অংশ নিয়েছিলেন- সেই রবীন্দ্রনাথ মোড় ঘুরছেন আন্তর্জাতিকতাবাদের দিকে । এইখানে আরেকটা যোগসূত্র । কিন্তু ছেদও । রবীন্দ্রনাথে যখন দুনিয়ার মানুষ এক হও, brotherhood of man; তখন সলিল চৌধুরী দেশপ্রেমিক হয়েও গলা মেলাচ্ছেন ভিন্ন স্লোগানে- দুনিয়ার মজদুর এক হও । আন্তর্জাতিকতাবাদে তাঁদের যোগ, আন্তর্জাতিকতাবাদের চরিত্রে তাঁদের ছেদ । এইখানে ছিন্ন হচ্ছে নাড়ির যোগ । তাহলে কী বলব- রবীন্দ্রনাথ সলিল চৌধুরী মাতা-পুত্র, না পিতা-পুত্র । সন্তান বিচ্ছিন্ন হল । এবার থেকে তাঁকে হাঁটতে হবে তাঁর নিজের পথে । যদিও তাঁর ভেতরে রয়ে গেল সেই জেনেটিক্স । একটা পাঁচ-মাথার মোড়ে রবীন্দ্রনাথের থেকে উত্তরাধিকার নেবেন সলিল চৌধুরী । ‘বাঁশি তোমায় দিয়ে যাব কাহার হাতে’ । তবু ‘যে পথে যেতে সে পথে তুমি একা’ ।

                                           ২

পাঁচ মাথার মোড় থেকে কোন পথে হাঁটতে থাকবেন সলিল চৌধুরী তা এবার ঠিক করে নেবার পালা । একদিকে তেভাগা । কলে মজুর, খেতে কিষাণ, একদিকে স্বাধীনতা আন্দোলন, অন্যদিকে উত্তরাধিকার । উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন রবীন্দ্রনাথকে । আসামের চা বাগানে তাঁর ডাক্তার বাবা শুনতেন পাশ্চাত্যসংগীত । সলিল চৌধুরীর মগজের ভেতরে ঢুকে পড়েছিল সেই সুরের তরঙ্গ ।  ‘আমি নিজেই দেখেছি আমার নিজের অভিজ্ঞতা । কলোনি পাড়ায় আমার সেই বেড়ে ওঠা, আমার বাবা রেডিওর নব ঘুরিয়ে শুনতেন কলকাতা খ । ওয়েস্টার্ন ক্লাসিকাল মিউজিক । অন্যদিকে রেকর্ডে বাজছে আব্দুল করিম খাঁর যমুনা কি তীর’। সলিল চৌধুরী শুনতেন চা বাগানের কুলিদের গান, folk tune- তাও জড়ো হচ্ছিল মগজের কোনো কুঠুরিতে- যার কিছুটা চেতন, কিছুটা প্রাক্‌চেতন । আনা ফ্রয়েডের সেই কথা । প্রথম পাঁচ বছর- একটা শিশুকে যা গড়ে তোলে । বাবার প্রতিবাদী চরিত্র সলিল চৌধুরীর ভেতরে ছাপ রেখে গেছে। ঠিক হয়ে যাচ্ছে এভাবেই এরপর ভবিষ্যতে তিনি গান করবেন- বিদ্রোহ আজ বিদ্রোহ চারিদ&am

>
about
My Blog

Debojyoti Mishra

Welcome to the musical world of composer Debojyoti Mishra.

 

<..

contact
My Blog

Debojyoti Mishra

11/1, Lovelock Place, Kolkata - 700019

Mobile : +91 9830059081

E Mail : debojyotimishra2@gmail.com